মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st মে ২০১৭

আত্মনির্ভরশীল না হয়ে অধিকার আদায় অসম্ভব- মেহের আফরোজ চুমকি, এম.পি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়


প্রকাশন তারিখ : 2017-05-01

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল,  ২০১৭

 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এম.পি বলেছেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে বঞ্চনার ভাগটা সবসময় নারীদের ভাগেই থাকে। সংগ্রাম নারী পুরুষ উভয়কে করতে হয়। কিন্তু পুরুষদের পথটা মসৃন আর নারীদেরটা  পথটা অনেক বেশি কঠিন। পরনির্ভরশীলতাকে ঘৃণা করতে হবে। কারো উপর নির্ভরশীল হতে আমরা চাই না। আমরা নারীরা নিজে বড় হবো, দশজনকে সাহায্য করবো। এভাবেই আমাদের তৈরী করতে হবে। অন্যের কাছে এখন আর সাহায্য সহযোগিতা চাইনা। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রধান জয়িতা। এদেশের নারীদের স্বাবলম্বি করে গড়ে তুলতে আড়াইশত কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।  আড়াইশো কোটি টাকার প্রজেক্টে সারাদেশের মোট ১৮ টি ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং প্রশিক্ষণের আসা যাওয়ার  ভাতাও তাদের দেয়া হবে। তিনি বলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় নারীকে মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করে তাদের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। সরকারের বিভিন্ন নারীবান্ধব উদ্যোগের কারণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের ফলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের নারীর উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়ন নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। তিনি আজ সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে শ্রেষ্ট জয়িতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির  বক্তৃতায়  এ সব কথা বলেন।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেগম সাহিন আহমেদ চৌধুরী।

 

                অনুষ্ঠানের শুরুতে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করা হয়। ঢাকা বিভাগে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে জয়িতা নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী, সফল জননী, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছে যে নারী ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী। ঢাকা বিভাগের সবগুলো জেলা হতে প্যানেল বিচারকের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৬৫ জন থেকে ১০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। আজ পাঁচ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ  ৫ জন জয়িতাকে চুড়ান্তভাবে নির্বাচন করে সম্মাননা প্রদান করা হয়। নির্বাচিত জয়িতাদের সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

 

                সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিভাগের কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, জয়িতা একজন সফল নারীর মূর্ত প্রতিচ্ছবি। বাংলার অজেয় নারী তথা জয়িতারা এখন বিশ্ব উন্নয়নের রোল মডেল। আজকের জয়িতারাই বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন ও ক্ষমাতায়নের প্রতিচ্ছবি।

চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতারা হলেন-

 

                ‘অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরীতে ‘বৃষ্টি’। পিতা- মৃত কফিল উদ্দিন শিকদার, স্বামী- আবু সালে সেন্টু, মাতা- সামসুন্নাহার, গ্রাম- দাসপাড়া, উপজলা- নরসিংদী সদর, জেলা- নরসিংদী। যখন ৪র্থ শ্রেণীতে পড়েন তখন তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন । মা অন্য মানুষের বাড়িতে তাঁতের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। মায়ের কাজের পাশাপাশি নিজে কাজ করতেন  এবং পড়াশুনাও করতেন। স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে পুলিশের চাকরি করবেন। কিন্তু চরম অভাবের সংসারের কোনো রকমে  ৮ম শ্রেণী পাশ করার পর  ২০০৩ সালে  তার মা তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেন। স্বামীর উপার্জনের অর্থ দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব দেখে পাশের বাড়ির একজনের কাছ থেকে ভাড়া হিসেবে একটি সেলাই মেশিন নিয়ে অন্যের কাপড় সেলাই করে উপার্জন করা শুরু করেন। পরবর্তীতে এনজিও থেকে বিশ হাজার টাকা কিস্তিতে নিয়ে দশ হাজার টাকা দিয়ে একটি মেশিন ক্রয় করে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তারঁ তিনটি কারখানা আছে । ২টি নিজের জায়গায় এবং ১টি ভাড়া জায়গায় । তাঁর কারখানায় ১০০ জন মহিলা শ্রমিক আছে । বর্তমানে তাঁর ব্যবসার পুঁজি আছে এক কোটি টাকা ও জায়গা আছে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যমানের। তিনি এখনও শ্রমিকের পাশে বসে একসাথে কাজ করেন। তার মনের ইচ্ছে যেন আরো এক হাজার মেয়েকে কাজ দিতে পারেন। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করেন।

 

                শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী- আমিনা ফাহমিদা খানম, পিতা মো, আলী হোসেন, মাতা রুমিয়া খাতুন গ্রাম, কালিদাস পট্টি, উপজেলা ধামরাই, জেলা ঢাকা। বাবা ছিলেন একজন গরীব কৃষক ।তার বাবা অন্যের জমিতে চাষ করে সংসার চালাতেন। মাত্র দেড় বছর বয়সেই তিনি পোলিও রোগে আক্রান্ত হন এবং আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে চিকিৎসার অভাবে শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন। পাঁচ বছর বয়সে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। স্কুল বাড়ি থেকে দুরে হওয়ায় এবং স্কুলের স্বাভাবিক ছেলেমেয়েদের সাথে প্রতিবন্ধী শিশু হিসেবে চলাফেরা করা ছিল তার জন্য অত্যান্ত কষ্টকর। তিনি নবম শ্রেনী হতে টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন। প্রতিবন্ধী হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি ইডেন মহিলা কলেজ হতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অর্নাস ও মার্ষ্টাস পাশ করেন। বর্তমানে তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। তিনি অদম্য ই’’ছা নিয়ে প্রতিবন্ধীকতার সমস্যা গ্লানিকে দূরে ঠেলে আলোকিত মানুষের মত জীবনটাকে গড়ে তুলেছেন।

      

      ‘সফল জননী’ ক্যাটাগরিতে মোছাঃ রওশনারা বেগম। স্বামী- মৃত মতিয়ার রহমান, পিতা- মৃত-আঃ গনি মাতা- মৃত জোবেদা খাতুন, গ্রাম- কেন্দুয়া বাজার, উপজেলা- ধনবাড়ী জেলাঃ টাঙ্গাইল। ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাশে বরাবরই ১ম স্থান অধিকার করা সত্ত্বেও অর্থাৎ মেধা থাকা সত্বেও ধর্মীয় নারীশিক্ষার পশ্চাৎপদতা এবং বয়সে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশী বয়সের সৎ ভাইদের অর্থনৈতিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে ৫ম শ্রেণীর বেশী তিনি যেতে পারেনি । ৫ম শ্রেণী পাসের পরই অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। সময়ের অভাবে রান্নার সময় লাকড়ির চুলার পাশে বসিয়ে প্রত্যেক সন্তানকেই  ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত হাতে-কলমে প্রাথমিক শিক্ষা দিয়েছেন। গ্রামের স্কুল থেকে ৫ ছেলের প্রায় সবাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বৃত্তি অর্জন করে।  ২য় ছেলে ১৯৭৮ সালে গ্রামের স্কুল থেকেই এসএসসি-তে ঢাকা বোর্ডে সেকেন্ড স্ট্যান্ড লাভ করে। গ্রামের স্কুলে পড়াশুনা করেও ৭ সমন্তান এর মধ্যে ৪ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছে। এক জন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে সম্মানসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে। অন্য দুই সন্তান বিএ পাশ । তার পাঁচ ছেলে এবং দুই মেয়ের নামঃ ১. সুলতান আহাম্মদ, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা। ২. মোঃ সফিকুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ, জেলা জজ আদালত, মৌলভীবাজার। ৩ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, এক্সিকিউটিভ অফিসার, সোনালী ব্যাংক, স্থানীয় কার্যালয় মতিঝিল, ঢাকা। ৪. মোহাম্মদ আল মামুন, উপ-সচিব (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ), বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়। ৫.মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, উপ-পরিচালক, ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইড সুপারভিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, ঢাকা। ৬.বিলকিছ আজিজ,গৃহিনী। ৭. লায়লা আঞ্জুমান, স্কোয়াড্রন লিডার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু কুর্মিটোলা, ঢাকা।

 

ঐ সময় কেন্দুয়া গ্রাম ও এর আশেপাশের এলায় শিক্ষিতের সংখ্যা হাতেগুনা ছিল। এই বিরূপ সামাজিক অবস্থা থেকে রওশনারা বেগম ছেলেমেয়েদেরকে তুলে নিয়ে এসেছেন। অল্প শিক্ষায় স্বামী-শশুরের আত্মতুষ্টির নেতিবাচক প্রবণতা থেকে উচ্চ শিক্ষার দিকে সন্তানদেরকে ধাবিত করার অর্থাৎ ধারা পরিবর্তনের একক কৃতিত্ব এই জননীর। ভবিষ্যত মা’দের কাছে তাঁর আবেদন: প্রতিটি মায়-ই যেন সন্তানদেরকে নৈতিক মূল্যবোধসহ সুশিক্ষা প্রদান করেন।

 

                নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী নাম- ফিরোজা খাতুন, স্বামী- এসহাক খলিফা, পিতা- মোতালেব ঘরামী, মাতা- মরিয়ম বেগম, গ্রাম- যাদুর চর, উপজেলা- সাভার, জেলা- ঢাকা। তার উপর সংসারের অনেক দায় দায়িত্ব ছিল। বাবার ইচ্ছা ছিল বড় সন্তানকে লেখা পড়া শিখাবে। কিন্তু সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থা তার আর লেখাপড়া করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। গৃহস্থলী ও বাবার হালচাষের কাজে সব সময় সে লিপ্ত ছিল। যুদ্ধের প্রায় ৭/৮ বছর পূর্বে তার বাবার উপস্থিতিতে তার এক গরীবের ঘরে বিয়ে হয়। সেখানে তার সুখের সংসার ছিল। তার ঘরে জন্ম নিল এক ১টি পুত্র সন্তান। ১৯৭১ সালে ফিরোজা বেগমের বয়স প্রায় ২৫ বছর ছিল। তখন তার সন্তানের বয়স ছিল দেড় বছর ১৯৭১ সালে যখন দেশে যুদ্ধ শুরু হয় তখন পাক হানাদার বাহিনী এসে তার বাড়ী দখল করে, বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে  নিঃস্ব করে দেয়। তার সন্তানকে ৪/৫ জন হানাদার বাহিনী ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলে। তাদের এই বর্বতার দৃশ্য দেখে সে চিৎকার করলে হানাদার বাহিনীরা জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যায় তাদের ক্যাম্পে।সেখানে ক্যাম্পে ক্যাম্পে হানাদার বাহিনী দ্বারা সে কয়েকবার ধর্ষিত হন শেষ পর্যায়ে যশোরের শার্শা থানায় বাঘাছাড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে  তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় তিনি নিয়োজিত ছিলেন। যখন তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন তখন গ্রামের মানুষ  তাকে গ্রামে থাকতে দেয় নাই। তার স্বামী ও তাকে গ্রহণ করেন নাই। পরবর্তীতে আগারগাঁও বস্তিতে বঙ্গবন্ধু তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলে সেখানে তিনি সব বিরঙ্গনা মহিলাদের সাথে বসবাস করতে থাকেন। ২য় বিয়ের কিছুদিন পরেই  সড়কর্দূঘটনায় তার স্বামী মারা যায়। বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের স্পেশাল আয়া হিসাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তিনি জাতীয় দিবস গুলোতে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি হেমায়েতপুরে মেয়ে ও মেয়ের জামাই নাতী নাতনী সহ একত্রে সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন।

 

                সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী নাম- কহিনুর আক্তার জুঁই, পিতা- মৃত সাদী বেপারী, মাতা- মৃত জয়গুন বিবি, গ্রাম- যাদুর চর বিলামালিয়া, উপজেলা- সাভার জেলা- ঢাকা। তিনি ৭ বছর বয়সে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই চোখের দৃষ্টি  শক্তি হারিয়ে ফেলেন। চোখের সমস্যার কারণে তার বাবা ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসেন সুস্থ করে তোলার জন্য। চক্ষু পরীক্ষা নীরিক্ষা করার পর ডাক্তার বলেন তার চোখের রগ শুকিয়ে গেছে। তিনি ১২বছর বয়সে  তার ছোট বোনকে নিয়ে কাজের সন্ধানে আজিমপুরে গিয়েছিলেন। সেখানে রাস্তার পাশে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন । তখন একজন বিদেশিনী মিস বিক্যামনেল এর সাথে পরিচয় হয়, যিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মহিলাদের নিয়ে কাজ করেন। তিনি তাঁকে বকসি বাজারে নিয়ে গেলেন তার হস্ত শিল্পের তৈরী কাজ গুলো দেখাতে এবং পরে বিক্যামনেল তাকে অন্ধদের স্কুলে বিনা বেতনে ভর্তি করে দেন। তিনি মিরপুর গার্লস ল্যাবরেটরী ইনিষ্টিটিউট থেকে এস,এস,সি ১৯৮৬ সালে পাশ করেন।১৯৮৮সালে মো্হাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পাশ করেন। এর পর ১৯৯৪ সালে ডিগ্রী পাশ করেন।১৯৯৮ সালে মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে এম এ, পরীক্ষা দেন। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন অন্ধ মহিলা সমিতি হিসাবে একটি সমিতি গঠন করেন। সেখানে তিনি অন্ধদের নিয়ে কাজ করেন। তিনি অন্ধদের জন্য একটি হাসপাতাল তৈরী করেন। তাঁর হাসপাতালের নাম হলো কহিনুর অন্ধ হাসপাতাল। সরকারী লীজকৃত সম্পত্তিতে তিনি এই হাসপাতালটি গড়ে তোলেন। জোড়পুল বাসষ্ট্যান্ডের পার্শে এই হাসপাতালটি অবস্থিত।তিনি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান পেয়ে থাকেন। এই অনুদান দিয়ে তিনি হাসপাতালটি পরিচালনা করেন। সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে তিনি হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য অর্থের সন্ধান করছেন। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অপরিসীম। তার লেখা বইও বাজারে বের হয়েছে। তিনি কাজের ফাঁকে ফাঁকে কবিতা ও গান লিখছেন।

 

                ক্যাটাগরীঃ ‘‘সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী" নাম- সালমা আক্তার, স্বামী- মোঃ লুৎফর রহমান, পিতা- মৃতঃ মেছের আলী, মাতা- হাজেরা বেগম, গ্রাম- স্বল্প হাতকোড়া, উপজেলা- মানিকগঞ্জ সদর জেলা- মানিকগঞ্জ। পিতা মাতা ছেলের আশায় তাদের তিন বোনের জন্ম হয়। তিনি ছিলেন  সবার ছোট। তাই মা তাকে তেমন যত্ন করতেন না। অভাব অনটনের সংসারে পড়াশুনা করতেন। তিনি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তেন তখন থেকে টিউশনি করে  পড়ার খরচ তিনি নিজেই চালাতেন। নিজের একান্ত প্রচেষ্টায় তিনি এইচ এস সি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। তার পরপরই তার বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন।স্বামী ছিল বেকার। শ্বশুর বাড়ীর লোক এমন কোন অত্যাচার নেই যেটা তারা তার সঙ্গে করে নাই। শ্বশুর বাড়ী অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তখন বাবার বাড়ীতে গিয়ে গহনা বিক্রি করে সুদে টাকা নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠান। তারপর একটু একটু করে বাড়ি ঘড় তৈরী করতে থাকেন। ২০১১ সালে সংরক্ষিত আসনে দিঘী ইউনিয়নে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। তিনি ৩ টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন। যৌতুক বিহীন ৮ টি বিয়ে দিয়েছেন।তিনি  মহিলাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ দেন, জন্ম নিবন্ধন,ঝড়ে পড়া শিশুদের উন্নয়ন,বিভিন্ন বিষয়ে  নারীদের সচেতন করার কাজ করছেন। স্বল্প হাতকোড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামে গ্রামের গরীব সদস্যদের নিয়ে তিনি  একটি সমিতি তৈরী করেছেন। সমিতিতে ১৫০ জন সদস্য আছে তারা এই সমিতিতে কাজ করছেন। ১০ টি টিউবয়েল, ১৫ টি ল্যাট্রিন , ২ টি সেলাই মেশিন, ৪ জনের পড়ার সুব্যবস্থা করেছেন। ব্যাবসা পরিচালনা করে, সংসার পরিচালনা ,বাচ্চাদের লেখাড়ার দায়িত্ব পালন করার পরও  সমাজের অসহায় মানুয়ের প্রতি কাজ করে যাচ্ছেন।

                          

 

                        

                                                                        (মোহাম্মদ আবুল খায়ের)

               জনসংযোগ কর্মকর্তা

        মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ফোনঃ ৯৫৪৫২২৫, মোবাইলঃ ০১৭১৬-০৬৬৮৮৮।


Share with :
Facebook Facebook