মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই বছরের অর্জিত কার্যক্রমের প্রতিবেদন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০২১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ নারী ও শিশু। নারী ও শিশুর সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নারীর দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন বন্ধ, নারী পাচার রোধ, কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা বিধান এবং আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডের মূল ধারায় নারীর পূর্ণ ও সমঅধিকার নিশ্চিতকরণসহ নারীর সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। ব্যাপক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, শ্রম বাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের দুই বছরে গৃহীত সার্বিক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সার নিম্নরূপ:
১। হতদরিদ্র মহিলাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বেষ্টনীর আওতায় পরিচালিত কার্যক্রমঃ
- মাতৃত্বকালীন ভাতাঃ ২০০৯-১০ অর্থ বছরে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ এ উন্নীত করা হয়। ভাতার পরিমান টাকা ৩০০/- থেকে টাকা ৩৫০/- উন্নীত করা হয়। ২০১০-১১ অর্থ বছরে এ উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৮৮,০০০ করা হয়েছে।
- কর্মজীবি ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল: ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে শহরাঞ্চলে কর্মজীবি ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ তহবিল হতে শহরাঞ্চলের কর্মজীবি গর্ভবতী মায়েদের জন্য জন প্রতি ৩৫০ টাকা প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করার পদক্ষেপ প্রথমবারের মত গৃহীত হয়েছে।
- ভিজিডি কর্মসূচীঃ বিত্তহীন মহিলাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সারাদেশে ভিজিডি কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্র ৭,৫০,০০০ হাজার মহিলাকে মাসে ৩০কেজি চাল/গম বা ২৫ কেজি পুষ্টি আটা প্রদান করা হচ্ছে।
- বিত্তহীন দরিদ্র মহিলাদের খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রম (VGD) – ৮০,০০০ হতদরিদ্র মহিলাকে মাথাপিছু ৪০০/- টাকা হারে ৫৭ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা বিতরন করা হয়েছে। সেই সাথে আয়বর্ধক প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে ও ৪৮,৮২০ জন মহিলার মাঝে ৩০ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার আয়বর্ধক সম্পদ বিতরন করা হয়েছে।
- নির্যাতিত দুঃস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিলঃ ২,০০০ জন নির্যাতিত দুঃস্থ মহিলা ও শিশুকে ৩৬,৩৭,০০০/- (ছত্রিশ লক্ষ সাইত্রিশ হাজার) টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
- সাধারণ, বিশেষ ও স্বেচ্ছাধীন অনুদান বিতরনঃ ২,৬২২টি মহিলা সমিতির মাঝে ৫,৪২,৩০,৫০০/- (পাঁচ কোটি বিয়াল্লিশ লাখ ত্রিশ হাজার পাঁচশত) টাকা অনুদান বিতরন করা হয়েছে।
- বিধবা ও দুঃস্থ মহিলা ভাতাঃ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্ত দুঃস্থ মহিলাদের ২০০৯-১০ অর্থ বছরে সারাদেশে উপকারভোগীর সংখ্যা ৯ লক্ষ থেকে ৯ লক্ষ ২০ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে ও মাসিক ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা হারে ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৩১.২০ কোটি টাকা।
২। জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন:
২০০৯-১০ অর্থ বছরে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীতে নারীর অংশীদারিত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথম বারের মত ৪টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করা হয় (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণ এবং খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়)। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে তা বৃদ্ধি করে ১০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার ভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
৩। জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ড:
জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ডের অর্থায়নে চর বোরহানউদ্দীন ও চর ফ্যাশন দুর্যোগ কবলিত এলাকায় মহিলা ও শিশুদের সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়নিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
৪। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম:
- শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব প্রশিক্ষণ একাডেমী, জিরানী, সাভার পুনরায় চালু করা হয়েছে। ২০০ জন মহিলাকে সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
- কম্পিউটার প্রশিক্ষন কেন্দ্রঃ ৪,৫০০ জন শিক্ষিত বেকার মহিলাদের জাতীয় মহিলা সংস্থার অধীন ৩০টি জেলায় ‘জেলা ভিত্তিক কম্পিউটার প্রশিক্ষন’ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে।
- জাতীয় মহিলা সংস্থার অধীন নগর ভিত্তিক প্রামিত্মক মহিলা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ঢাকাসহ মোট ৬টি জেলায় ১৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ১,০৩০ জন দরিদ্র, বেকার ও বিত্তহীন মহিলাদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
- প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলাগণের হাতের তৈরী দ্রব্যাদি প্রদশর্নী ও বিক্রয়ের জন্য ঢাকা আনারকলি সুপার মার্কেটে ‘‘সোনার তরী’’ নামে একটি বিক্রয় ও প্রদশর্নী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- দুঃস্থ অসহায় মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১,৩১৬ টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
- জাতীয় মহিলা প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন একাডেমী কর্তৃক ১৭৩ জন ও ১৭৮ জন মহিলা কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ব্লক, বাটিক, দর্জি বিজ্ঞান, এমব্রয়ডারী, সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স বিষয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
৫। আইন ও নীতি প্রণয়ন কার্যক্রমঃ
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ পাশ করা হয়।
- জাতীয় শিশু নীতি ২০১০ প্রণয়নের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
- জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পেশ করার জন্য নারীর প্রতি সকল বৈষম্য বিলোপ সনদের (CEDAW) সমন্বিত ৬ষ্ঠ ও ৭ম পিরিয়ডিক রিপোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে।
৬। গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সেমিনার:
- গত ২২/০৪/২০১০ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত জাতীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন পরিষদ (NCWCD) এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
- গত ৩-৫ অক্টোবর, ২০১০ তারিখে ঢাকায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউনিফেম এর যৌথ উদ্যোগে ৭ম দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। সম্মেলন শেষে নারীর প্রতি সকল বৈষম্য দূর করে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাওয়া এবং এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে আঞ্চলিক সহযোগিতার হাতকে আরো শক্তিশালী করণের অঙ্গীকার নিয়ে ‘‘ঢাকা রেজুলিউশন ২০১০’’ গৃহীত হয়।
- ফেব্রুয়ারী, ২০১০ নিউইয়র্কে COMMONWEALTH GENDER CHAIR গ্রহণ করে বাংলাদেশ। গত ৬-৭ ডিসেম্বর, ২০১০ Commonwealth Gender Plan of Action Monitoring Group (CGPMG) এর সভা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। Commonwealth ভুক্ত দেশসমূহের মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী ও সচিবগণ এ সভায় অংশগ্রহণ করে।
- SAARC Gender Info Base t সার্ক দেশ সমূহের নারীদের প্রতি সহিংসতা, নারীর স্বাস্থ্য ও নারী দারিদ্র বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ পূর্বক তথ্যভান্ডার তৈরী করার জন্য বিগত ১৭/০৮/২০১০ তারিখ ঢাকায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে একটি গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৭। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রমঃ
- সিসির কার্যক্রমঃ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল ও খুুলনা ওসিসি থেকে নির্যাতনের স্বীকার ৩,১৯৪ জন নারী ও শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। রংপুর বিভাগে ওসিসি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- ডিএনএ ল্যাবরেটরী কার্যক্রমঃ ৬৮০টি মামলার ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
- ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারঃ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ২৫২ জন নির্যাতিত নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বালক-বালিকা বিদ্যালয়ের ১১০ জন শিক্ষককে সাপোর্টিভ কাউন্সিলিং এর ক্ষেত্রে মৌলিক দক্ষতার উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
- ইভটিজিং প্রতিরোধে গনসচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান ও র্যালীঃ সারাদেশে ইভটিজিং প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, র্যালী ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপনে দেশের ৬৪ জেলায় একই সময়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
- নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে গণমাধ্যমে তিনটি বিজ্ঞাপন ও থিমসং প্রস্ত্তত করে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৮। শিশুদের জন্য গৃহীত কার্যক্রমঃ
শিশুদের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মভিত্তিক শিশুতোষ গ্রন্থমালা প্রকাশের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
- শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে ৮০৫৮টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
- আইলাদুর্গত এলাকায় ১৫০০০ শিশুকে শিশু বান্ধব পরিবেশে মৌলিক সেবা প্রদানসহ এডিস ভিকটিম শিশুদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
- শিশুদের বিনোদনের জন্য ওসমানী উদ্যানে শিশু কর্ণার, গুলশান-তালতলা পার্কে শিশুদের জন্য একটি প্রজাপতির ভাস্কর্য এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে একটি শিশু কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে।
- ২০১০-১১ অর্থবছরে ১০টি দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ৩০টি জেলায় শিশুদের কম্পিউটার প্রশিক্ষন কর্মসূচী অনুমোদিত হয়েছে।
- শিশু একাডেমীর মাধ্যমে হতদরিদ্র শিশুদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে বাউনিয়া বাঁধ আইডিয়াল হাই স্কুল চত্বরে চিত্রাংকন প্রশিক্ষন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
- ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুকে শিশু বান্ধব পরিবেশে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।& অপরদিকে মৌলভীবাজার চা বাগানে ২৪টি কেন্দ্রে চা-শ্রমিকদের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
- শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশকালীন সময়ে তার চিমত্মা, মেধা ও মননের যথাযথ বিকাশের লক্ষ্যে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দানের জন্য অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সিসিমপুর আউটরীচ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
- এম্পাওয়ারমেন্ট এন্ড প্রোটেকশন অব চিলড্রেন প্রকল্পের আওতায় ২৯টি জেলায় ২৮৬০টি ক্লাবের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, যৌতুক, শিশু অধিকার, দুর্যোগ মোকাবেলা, সাঁতার ইত্যাদি বিষয়ে জীবন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
- বাংলাদেশ শিশু একাডেমী কর্তৃক সংগীত, নৃত্য, গীটার, তবলা আবৃত্তি, চিত্রাংকন ইত্যাদি বিষয়ে ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী মো্ট ৩৯০০ জন শিশুকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১০০ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ ৪৪টি শিশুতোষ বই ও মাসিক শিশু পত্রিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
- ২০০৯ সনের জুন মাসে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে আমত্মর্জাতিক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ ৩৩টি দেশের শিশুরা অংশগ্রহণ করে।
৯। অনুমোদিত ও গৃহীত প্রকল্পসমূহঃ
২০১০-২০১১ অর্থ বছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ও গৃহীত প্রকল্পসমূহ নিমণরূপঃ-
- বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর ০৬টি জেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান (নরসিংদী, ফরিদপুর, গোপালঞ্জ, পটুয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও ঝিনাইদহ)।
- ট্রেনিং ফর ডিজএ্যাডভেনটেঞ্জড ওমেন অন রেডিমেট গার্মেন্টস এ্যাট শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ট্রেনিং একাডেমী, জিরানী, গাজীপুর।
- জেলা পর্যায় মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (WTC)
- অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প ২য় পর্যায়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
- পলিসি লিডারশীপ এ্যান্ড এ্যাডভোকেসী ফর জেন্ডার ইকুয়্যালিটি-২ (প্লাজ-২), (কানাডিয়ান সিডা)।
- নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম (২য় পর্ব), (ডানিডা)।
- ক্রাপাসিটি বিল্ডিং ফর মনিটরিং চাইল্ড রাইটস (জাতিসংঘ শিশু তহবিল)।
- এম্পাওয়ারমেন্ট এন্ড প্রটেকশন অব চিলড্রেন, ইপিসি (জাতিসংঘ শিশু তহবিল)।
- প্রমোশন অব লিগ্যাল এ্যান্ড সোশ্যাল এম্পাওয়ারমেন্ট অব উইমেন (২য় পর্যায়), জিটিজেড)
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর
- মহিলা ও শিশু ডায়াবেটিক, এন্ডাক্রিন এন্ডোক্রিন মেটাবলিক হাসপাতাল, ঢাকা।
- নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ৫টি বিভাগীয় শহরে ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টিকরণ।
- নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কর্মজীবি মহিলাদের শিশুদের জন্য দিবাযত্ন কর্মসূচী।
- Vulnerable Group Development for Ultra-Poor (VGDUP) Project (European Union).
জাতীয় মহিলা সংস্থা
- জেলা ভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ (২য় পর্যায়)।
- নগর ভিত্তিক প্রামিত্মক মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমী
- শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা (জাতিসংঘ শিশু তহবিল)
- সিসিমপুর আউটরিচ প্রকল্প (ইউএসএইড)
১০। ডিজিটালাইজেশনঃ
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনসত্ম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জাতীয় মহিলা সংস্থা এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর নিজস্ব ওয়েবসাইট আপডেট করে যুগোপযোগী করা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের আওতায় বেগম রোকেয়া ডকুমেন্টেশন সেন্টারে বই পত্রের অটোমেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৪৯০টি কম্পিউটার অমত্মর্ভূক্ত করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগসহ ৭৯টি কম্পিউটার বিতরণ করা হয়েছে।

